কেন দাবা অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত নয়?
বিশ্বের প্রায় সকল দেশই দাবা খেলে থাকে। অনেক দেশে দাবা সরকারি খেলা হিসেবেও স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আবার অনেক দেশের শিক্ষা কারিকুলামেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC) দাবাকে একটি খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে কিছু দেশ দাবাকে খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে। অনেক দেশে দাবাকে খেলা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আন্দোলন ও পিটিশন হয়েছে এবং তা এখনো চলমান।
তবে দাবাকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত না করার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এর দর্শকসংখ্যা। অলিম্পিকে সাধারণত এমন খেলার অন্তর্ভুক্তি হয় যা দর্শকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং সহজেই বোঝা যায়।

কিন্তু দাবা খেলার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে সাধারণ দর্শকদের জন্য, বোঝা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায় যে খেলার কোন পর্যায়ে কার অবস্থান কেমন এবং কে জিতছে বা হারছে। দাবা খেলার সময় লাগে বেশি, যা অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। দাবা খেলা সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে চলে, এর বিপরীতে অনেক খেলাই খুব কম সময়ে শেষ হয়ে যায়। অনেক খেলা এমন আছে যেগুলো কয়েক সেকেন্ডেই ফলাফল নির্ধারিত হয়ে যায়।

দাবাতে কিছু নতুন ফরম্যাট এসেছে যেমন র্যাপিড এবং ব্লিটজ, যা দাবাকে দ্রুতগতির খেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে অনেক দেশ মনে করে, অলিম্পিকে দাবাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এটাও যথেষ্ট নয়। আরেকটি সাধারণ যুক্তি হলো দাবা একটি শারীরিক খেলা নয় এবং এটি খেলতে শারীরিক দক্ষতার প্রয়োজন হয় না। তবে, দাবা যে একটি প্রতিভাধর খেলা এবং বিজ্ঞানসম্মত, তা সবাই স্বীকার করে। যদিও অলিম্পিকের খেলা গুলোতে সাধারণত শক্তি, গতি, বা কৌশলের প্রয়োজন হয়, দাবা একটি মানসিক প্রতিভা এবং দূরদর্শিতার খেলা বলেই বিবেচিত।

১৯৯২ সালে এনকি বিলাল নামে একজন দাবা এবং বক্সিংকে একত্রিত করে ‘চেসবক্সিং’ নামক একটি খেলা সৃষ্টি করেন। এই খেলাটি দাবা এবং বক্সিং উভয়ের দক্ষতা প্রয়োজন এবং এর একটি নির্দিষ্ট পরিসর রয়েছে। যদিও চেসবক্সিং অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, তবে এটি একটি ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় খেলা হিসেবে দেখা যায়। ২০১১ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক চেসবক্সিং ক্লাব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, এবং তারপর থেকে বিশ্ব চেসবক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপসহ আরও অনেক প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে এর ভালো জনপ্রিয়তা রয়েছে।
জনপ্রিয়তায় ২০২২ সালের চেন্নাই অলিম্পিয়াড দাবাকে নিয়ে গিয়েছেলো এক অনন্য উচ্চতায়। পুরো চেন্নাই যেন পরিণত হয়েছিল এক দাবার শহর।
আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা (ফিদে) আলাদা ভাবে দাবা অলিম্পিয়াড আয়োজন করে যা বিশ্বের জনপ্রিয় একটি প্রতিযোগিতা। প্রতি দুই বছর পর পর দাবা অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয় এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই প্রতিযোগিতায় নিয়মিত ভাবে অংশগ্রহণ করে। এর পরেও (ফিদে) আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অন্যান্য খেলার সাথে তাল মিলিয়ে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং বড় বড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করে যাচ্ছে।

অলিম্পিকে দাবা অন্তর্ভুক্তির পক্ষে অনেক যুক্তি থাকলেও, অন্তর্ভুক্তি না করার পেছনেও কিছু যুক্তি রয়েছে যা অনেক বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে। তবে দাবারু হিসেবে আমি মনে করি দাবাকে অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দাবা যদি অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে দাবায় এক বিপ্লব আসবে বলে আশা করা যায়।

আপনাদের যে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে আমাকে জানাতে পারেন। আমি চেষ্টা করব সবার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার। অন্য কোন বিষয়েও প্রশ্ন থাকলে জানাবেন আমি সেই বিষয়ে ব্লগ লেখার চেষ্টা করব ।